
সকাল – সন্ধ্যায় তিনবার পড়ার দোয়া –
১।
بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الأَرْضِ وَلاَ فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
উচ্চারণঃ “বিসমিল্লা-হিল্লাযী লা- ইয়াদ্ দূররু মা’আইস্মিহী শায়উন ফিল আরদি ওয়া লা- ফিস্ সামা-য়ি, ওয়া হুওয়াস্ সামী’উল ’আলিম’’ অর্থঃ আল্লাহর নামে শুরু করছি, যে নামের সাথে আসমান ও জমিনে কোন কিছুই কোন ক্ষতি করতে পারে না। তিনি সব শুনেন ও জানেন।
ফজিলতঃ যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় তিনবার এই দোয়া বলবে সকাল হওয়া পর্যন্ত তার প্রতি কোনো হঠাৎ বিপদ আসবে না। আর যে তা সকালে তিনবার বলবে সন্ধ্যা পর্যন্ত তার উপর কোনো হঠাৎ বিপদ আসবে না। (আবূ দাউদ,হা/ ৫০৮৮ ; তিরমিযী,হা/৩৩৮৮ ; মিশকাত,হা/২৩৯১)।
২।
اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي بَدَنِي، اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي سَمْعِي، اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي بَصَرِي، لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ،
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكُفْرِ، وَالْفَقْرِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ
উচ্চারণঃ “আল্ল-হুম্মা ’আ-ফিনী ফী বাদানী, আল্ল-হুম্মা ’আ-ফিনী ফী সাম্’ঈ, আল্ল-হুম্মা ’আ-ফিনী ফী বাসারী লা- ইলা-হা ইল্লা- আংত।’’
আল্ল-হুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল কুফরি ওয়াল ফাকরি, আল্ল-হুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন আজাবিল ক্ববর, লা ইলাহা ইল্লা আংত।”
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমার দেহ সুস্থ রাখুন, হে আল্লাহ! আমার শ্রবণশক্তি সুস্থ রাখুন, হে আল্লাহ! আমার দৃষ্টিশক্তি সুস্থ রাখুন। আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।”’’হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট কুফরী ও দরিদ্রতা থেকে আশ্রয় চাইছি। হে আল্লাহ! আমি কবরের আযাব থেকে আপনার নিকট আশ্রয় চাইছি, আপনি ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ নেই।’’
ফজিলতঃ আব্দুর রাহমান ইবনু আবূ বকর বলেন, আমি আমার পিতাকে বললাম, হে আব্বাজান! আমি আপনাকে প্রতিদিন ভোরে ও সন্ধ্যায় তিনবার এই দোয়া বলতে শুনি ’ তিনি বললেন, আমি রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ বাক্যগুলো দ্বারা দু’আ করতে শুনেছি। সেজন্য আমিও তার নিয়ম অনুসরণ করতে ভালোবাসি। (আবূ দাউদ,হা/ ৫০৯০ ; মিশকাত,হা/ ২৪১৩)।
৩।
” سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ عَدَدَ خَلْقِهِ وَرِضَا نَفْسِهِ وَزِنَةَ عَرْشِهِ وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ ”
উচ্চারণঃ “সুবহা-নাল্ল-হি ওয়া বি’হামদিহী, আদাদা খলক্বিহী, ওয়ারিদ্বা- নাফসিহী, ওয়া যিনাতা আরশিহী, ওয়া মিদা-দা কালিমা-তিহ্।
অর্থঃ “আমি আল্লাহর প্রশংসার সাথে তার পবিত্রতা বর্ণনা করছি তার মাখলুকের সংখ্যার পরিমাণ, তার সন্তুষ্টির পরিমণ, তার আরশের ওযন পরিমাণ ও তার কালিমাসমূহের সংখ্যার পরিমাণ।”
ফজিলতঃ জুওয়ায়রিয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যূষে তাঁর নিকট থেকে বের হলেন। যখন তিনি ফজরের সালাত আদায় করলেন তখন তিনি সালাতের জায়গায় ছিলেন। এরপর তিনি দুহা’র পরে ফিরে এলেন। তখনও তিনি বসেছিলেন। তিনি বললেন, আমি তোমাকে যে অবস্থায় রেখে গিয়েছিলাম তুমি সেই অবস্থায়ই আছ। তিনি বললেন, হ্যাঁ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি তোমার নিকট থেকে যাওয়ার পর চারটি কালেমা তিনবার পাঠ করেছি। আজকে তুমি এ পর্যন্ত যা বলেছ তার সাথে ওযন করলে এই কালেমা চারটির ওযনই বেশী হবে। (সহীহ মুসলিম (ই.ফা),হা/ ২৭২৬,৬৬৬৫) ।
৪।
“أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ”
উচ্চারণঃ “আ’ঊযু বিকালিমা- তিল্লা-হিত্ তা-ম্মা-তি মিন্ শাররি মা- খলাক’’ অর্থঃ আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালাম সমূহের মাধ্যমে আল্লাহর সৃষ্ট সকল কিছুর অনিষ্টতা হতে আশ্রয় চাই।
ফজিলতঃ আল্লাহর রসূল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন সকাল-সন্ধ্যায় এবং কোন ঘাটতি অবতরণ করে এই দোয়া পড়লে কোন কিছুই কোন ক্ষতি সাধন করতে পারবে না। (সহীহ মুসলিম,হা/ ২৭০৮; তিরমিযী,হা/ ৩৪৩৭; ইবনে মাজাহ,হা/৩৫৪৭)।
৫।
رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالإِسْلاَمِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا –
উচ্চারণঃ “রদ্বীতু বিল্লা-হি রব্বান, ওয়াবিল ইসলামী দীনান, ওয়া বিমু’হাম্মাদিন নাবিয়্যা”। অর্থঃ “আমি আল্লাহকে রব, ইসলাম কে দ্বীন এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রাসূল হিসেবে সন্তুষ্ট চিত্তে মেনে নিয়েছি”
ফজিলতঃ কোন বান্দা সকালে ও সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে এই দোয়া পাঠ করবে কিয়ামতের দিন তার উপর সন্তুষ্ট হওয়া আল্লাহর কর্তব্য হয়ে যায়। (ইবনে মাজাহ,হা/ ৩৮৭০ ; আবূ দাউদ,হা/ ৫০৭২ ; তিরমিযী,হা/ ৩৮৮৯)।
৬।
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ
উচ্চারণ: আল্ল-হুম্মা ইন্নী আসআলুকাল জান্নাতা ওয়া আ’উযু বিকা মিনান্নার। অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে জান্নাত প্রার্থনা করছি এবং জাহান্নাম থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাইছি।
ফজিলতঃ রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো ব্যক্তি তিনবার জান্নাত প্রার্থনা করলে জান্নাত বলে, “হে আল্লাহ! তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান।” আর যে ব্যক্তি তিনবার জাহান্নাম থেকে মুক্তি কামনা করে, তখন জাহান্নাম বলে, “হে আল্লাহ! তাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করুন।” (ইবনে মাজাহ,হা/৪৩৪০; তিরমিযী,হা/ ২৫৭২।

