
প্রকল্পের পটভূমি
বিশুদ্ধ পানি মানুষের মৌলিক অধিকার। কিন্তু ভাটি সাভার ও আশেপাশের গ্রামাঞ্চলের অনেক পরিবার আজও বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানির নিশ্চিত উৎস থেকে বঞ্চিত। আর্সেনিক দূষণ, নলকূপের স্বল্পতা এবং পানি পরিশোধনের সুবিধা না থাকায় অনেক মানুষ দূষিত পানি পান করতে বাধ্য হচ্ছেন।
এই মানবিক সংকট উপলব্ধি করে জামিয়াতু লুৎফুর রহমান আল ইসলামিয়া মাদরাসা এলাকাবাসীর সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণে “বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্প” চালু করেছে।
প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
লক্ষ্য ০১: এলাকার সকল পরিবারকে বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানির সহজলভ্য সুযোগ দেওয়া
লক্ষ্য ০২: দূষিত পানি থেকে সৃষ্ট পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধ করা
লক্ষ্য ০৩: দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোকে বিনামূল্যে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা
লক্ষ্য ০৪: পানি ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যবিধি প্রচার করা
প্রকল্পের কার্যক্রম
- বিশুদ্ধ পানির পয়েন্ট স্থাপন — মাদরাসা প্রাঙ্গণে ও কৌশলগত স্থানে পরিশোধিত পানি সংগ্রহের কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যেখান থেকে যেকোনো মানুষ বিনামূল্যে বিশুদ্ধ পানি নিতে পারেন।
- গভীর নলকূপ স্থাপন — আর্সেনিকমুক্ত গভীর নলকূপ খনন করে বহু পরিবারের পানির চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে।
- পানি পরীক্ষা ও মনিটরিং — নিয়মিতভাবে পানির মান পরীক্ষা করে আর্সেনিক ও জীবাণুমুক্ততা নিশ্চিত করা হয়।
- সচেতনতামূলক প্রচারণা — পানি ফুটিয়ে পান করা, হাত ধোওয়া ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে এলাকাবাসীকে উদ্বুদ্ধ করা হয়।
- বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের সহায়তা — বৃদ্ধ, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বাড়িতে পানি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
পানি সরবরাহের ধাপসমূহ
- গভীর নলকূপ থেকে বা বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করা হয়
- ফিল্টার ও পরিশোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পানি বিশুদ্ধ করা হয়
- পরিষ্কার পাত্রে সংরক্ষণ করে বিতরণ কেন্দ্রে রাখা হয়
- এলাকাবাসীকে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে বিতরণ করা হয়
উপকারভোগী ও প্রভাব
- দরিদ্র পরিবার
- শিশু ও নারী
- বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তি
- মাদরাসার শিক্ষার্থী
বিশুদ্ধ পানি শুধু তৃষ্ণা মেটায় না — এটি একটি পরিবারের সুস্বাস্থ্য, সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং একটি সমাজের মঙ্গল নিশ্চিত করে। নবী করীম (সা.) বলেছেন, “সর্বোত্তম সদকা হলো পানি পান করানো।” — (ইবনে মাজাহ)
আপনিও অংশীদার হোন
এই প্রকল্পকে আরও বিস্তৃত করতে আমাদের প্রয়োজন সহৃদয় মানুষদের সহায়তা। একটি গভীর নলকূপ স্থাপন, ফিল্টার মেশিন ক্রয় বা পানি বিতরণ কেন্দ্রের খরচ বহনে আপনার ছোট অবদানও হতে পারে অনেক পরিবারের জন্য বড় নেয়ামত। যে কোনো ব্যক্তি, প্রবাসী বাংলাদেশী বা দাতা সংস্থা এই মানবিক কার্যক্রমে অর্থ, যন্ত্রপাতি বা স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে অংশ নিতে পারেন।
